
Loading...

Loading...

নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসাের ঐতিহ্য ও মাইলফলক সম্পর্কে জানুন — একতা, অগ্রগতি এবং মাদ্রাসা কল্যাণের প্রতি নিষ্ঠার একটি গল্প।

নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসা সুদীর্ঘ সময়ের স্বপ্ন, যা তিলে তিলে হৃদয়ের মনিকোঠায় গড়ে ওঠা এক স্বপ্নের বাস্তবায়িত রুপ। এ প্রতিষ্ঠান বির্নিমানের স্বপ্ন বুকে লালন করে সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন আমাদের প্রতিষ্ঠাতা মহোদয়। চারদিকে যখন মৃত্যুর মিছিল, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, বিশ্ব সর্বত্রে যখন হাহাকার, তখনই রবের এক অপার রহমত আর বিশেষ অনুগ্রহে প্রতিষ্ঠিত হয় নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসা। উক্ত মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতা হলেন শাহসূফি মুন্সী অরনগাজী আবদাল (রহঃ) ঔরসজাত সন্তান মৌলভী আব্দুল জব্বার (রহঃ) ও শাহ সূফি সুলতান আহমদ ফকির (রাহঃ) এর দৌহিত্র উস্তাদুল উলামা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ শহিদুর রহমান হাফিজাহুল্লাহ। যার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগ এর ফসল আজকের নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসা। এ মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার পূর্বে আমাদের কে ফিরে যেতে হচ্ছে অত্র মাদরাসার স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় এর শৈশব জীবনে। আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে তিনি এমন একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন যার পূর্বপুরুষগণ এতদ অঞ্চলে ইসলাম ও মানবতার খেদমতে নিজেদেরকে করেছিলেন নিবেদিত, সমাজ সংস্কার, মানব কল্যানে রেখেছিলেন অনবদ্য ভূমিকা। প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় এর বড় আব্বা শাহ সূফী মুন্সী অরন গাজী আবদাল (রহঃ) ছিলেন একজন উঁচু মানের আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তিত্ব। তারই ঔরসজাত একমাত্র সুযোগ্য পুত্র মৌলভী আব্দুল জব্বার (রহঃ) এর দৌহিত্র ও সুফি সাধক মৌলভী আব্দুল মান্নান ফকির (রহ:) পুত্র আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ শহিদুর রহমান। তিনি মায়ের দিক দিয়েও ছিলেন সম্ভ্রান্ত মুসলিম বংশ মর্যাদার অধিকারী। তাঁর নানা ছিলেন প্রখ্যাত সূফী সাধক, ইলমে শরীয়ত, ত্বরিকত মারেফাত এর জ্ঞানে যিনি ছিলেন সমৃদ্ধ শাহ সূফী সুলতান আহমদ ফকির (রহঃ)।
শাহ সূফী মুন্সী অরনগাজী আবদাল (রহঃ), মৌলভী আব্দুল জব্বার (রহঃ) ও শাহ সূফী সুলতান আহমদ ফকির (রহঃ) বাবা আব্দুল মান্নান ফকির (রহ:) এবং উস্তাদুল উলামা শাইখুল হাদিস আল্লামা আব্দুল মালেক (রহঃ) উস্তাজুল ওলামা আব্দুল মাজিদ (রহ:), বুড়িচং এর দোয়ার ফসল আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ শহিদুর রহমান। বিষয়টি আরেকটু বিস্তারিত বলি, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় এর যখন ৭/৮ বছর বয়স তখনই তাঁর প্রিয় মা চলে যান মহান রবের সান্নিধ্যে (ইন্না-লিল্লহী ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন)। মা`য়ের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় বাবার কাছেই পড়াশোনার হাতেখড়ি শুরু করেন। পরবর্তীতে নানা ভাই শাহ সূফী সুলতান আহমদ ফকির (রহঃ) এর সান্নিধ্যে থেকে ইসলামের প্রাথমিক দিক্ষা লাভ করেন, নানা ভাই তার আদূরে নাতিকে স্বীয় পাশে রেখে নানান বিষয়ে শিক্ষা দেন ও নাতির জন্য দোয়া করতে থাকেন। তিনি ও নানা ভাই এর খেদমতে নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন। একদা একদিন ফজরের পর নানা ভাই বললেন যাও তুমি গিয়ে তোমার দাদার কবর যিয়ারত করে আস, বালক মোঃ শহিদুর রহমান দাদা`র কবর যিয়ারত করে এসে কৌতূহল থেকে নানা ভাই কে জিজ্ঞেস করেন, হঠাৎ কেন কবর যিয়ারত এ পাঠালেন? নানা ভাই সেদিন বলেছিলেন আমি স্বপ্নে দেখলাম তোমার ঘরে তোমার দাদা তাশরিফ এনেছেন এবং দ্বীন ইসলামের বয়ান করছেন। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় তখন বলেছিলেন এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি? সেদিন নানা ভাই বলেছিলেন আল্লাহ তোমার মাধ্যমে ইসলামের খেদমত নিবেন। নানা ভাই এর সান্নিধ্যে অল্প কিছু দিন থাকার পরে নানা ভাই মৃত্যু বরণ করেন।
নানার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় কষ্টে পতিত হলেও মামা, শিক্ষক ও এলাকার লোকজনদের সহযোগীতা ও ভালোবাসায় ছাত্র জীবন শেষ করেন। ছাত্র জীবনে এমন কিছু শিক্ষক এর সাহচর্য ও দোয়া পেয়েছিলেন যাদের দোয়ার বরকতে তিনি আজকের এ অবস্থানে পৌঁছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্যবাহী ভারেল্লা শাহ ইসরাইল কামিল মাদরাসা সাবেক উপাধ্যক্ষ শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল মালেক (রহঃ) ও মাদরাসায়ে আলিয়া চকবাজার কুমিল্লা এর সাবেক অধ্যক্ষ শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতী আলী হোসাইন (রহঃ) প্রমুখ। আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ শহিদুর রহমান হাফিজাহুল্ল্যাহ ছাত্র জীবন থেকেই বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসায় খেদমত করেছেন। মসজিদ, মাদরাসা, মক্তব প্রতিষ্ঠায় রেখেছেন বলিষ্ঠ ভূমিকা। কর্মজীবনে একাধিক প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ/সুপারিন্টেটেন্ট হিসেবে সুদীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। পরপর গড়েছেন তিনটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান, যা বর্তমানে গৌরবের সাথে সৌরভ ছড়াচ্ছে। এত কিছুর পরও যেন প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় এর মন ভরে না, বারবার মনে হচ্ছে আমার নিজ এলাকায় একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। যেখান থেকে তৈরি হবে জামানার হাদী, মুহাদ্দিস, মুফাসসীর, লেখক, গবেষক, প্রকাশক, দার্শনিক, হাফিজুল কোরআন, হাফিজুল হাদিস, আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৈরি হবে একদল সক্ষম আল্লাহ ভীরু বান্দা। একদা তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে মনের ভিতর লালিত স্বপ্নের কথা জানান। তিনি একটি দ্বীনী মারকাজ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছে পোষন করে তার জীবনে প্রথম ক্রয়কৃত জমি থেকে ২০ শতক জমি মাদসার জন্য দান করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরিবারের সদস্যবর্গ প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় এর স্বপ্ন কে আনন্দের সহিত গ্রহন করে দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে থাকেন। রমজান মাস ২০২১ ইং যখন চারদিকে মৃত্যুর মিছিল, বাসা থেকে বিনা প্রয়োজনে বের হওয়া নিষিদ্ধ, করোনা নামক মহামারি তে পুরো বিশ্ব থমকে গেছে, বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, মসজিদ গুলোতে ০৫ জন মুসল্লীর বেশি একত্রিত হয়ে সালাত আদায় নিষিদ্ধ, বাধ্য হয়েই পরিবারের সদস্য দের নিয়ে নিয়মিত ০৫ ওয়াক্ত সালাত ও তারাবি আদায় করতেন ইনসাফ গার্ডেন সিটির বিসমিল্লাহ ভিলার বাসায়, নিয়মিত সালাত শেষে স্বীয়, সন্তান, নাতী, শ্বশুর-শ্বাশুরী নিয়ে ফরিয়াদ করতে থাকেন স্বপ্নের মাদরাসা বাস্তবায়নের জন্য। আল্লাহ সেই রমজান মাসে সারাদিন রোজা শেষে তারাবি আদায় করে তাঁর নিকট করা ফরিয়াদগুলো কবুল করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
তিনি তাঁর সন্তান দের কে দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় এর বড় সন্তান ও নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসা মহাপরিচালক মুফতী মোঃ আবু শোয়াইব বিল্লাহ যোগ্য পিতার সুযোগ্য সন্তান, আল্লাহ তাঁকে ইসলাম ও জাগতিক পার্থিব সকল জ্ঞানে করেছেন ধন্য। সময়টি ২০১২ সাল, তখন তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী, WAMY (World Assembly Of Muslim Youth) কর্তৃক সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ প্রদান করা হতো। তিনি ও ছিলেন সেই স্কলারশিপ প্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী, এই স্কলারশিপ প্রাপ্তিতে মাস্টার মোঃ আনোয়ার হোসেন ও মাস্টার মোঃকামরুল ফারুক রেখেছেন অসামান্য ভূমিকা। এপথচলায় পাশে পেয়েছিলেন তৎকালীন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আবু মোসা, রুকনুজ্জামান ও সাইফুদ্দীন সহ বিভিন্ন মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের। স্কলারশিপ নিতে প্রতিমাসে গাজীপুরে WAMY অফিসে মিলিত হতো সাড়া দেশ থেকে মেধাবীরা, এ যেন মেধাবীদের এক মহা মিলন। সৃষ্টি হতো এক নয়নাভিরাম পরিবেশ, যে দৃশ্য ভুলার মতো নয়। সেখান থেকেই মুফতী মোঃ আবু শোয়াইব বিল্লাহ ও স্বপ্ন বুনা শুরু করেন এমন মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরির একটি প্রতিষ্ঠান নিজ জন্মস্থানে গড়ে তোলার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য কামনা করতেন, যেখান থেকেই ভালো কিছু পেয়েছেন সংরক্ষণ করেছেন স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান বিনির্মানে। পিতা ও পুত্রের স্বপ্ন এসে মিলিত হলো এক জায়গায়, গড়ে তুলবেন দ্বীনি মারকায, সাথে পেলেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার আশ্বাস। অন্যদিকে চলছে মাদরাসা নির্মাণের জন্য রবের দরবারে স্বপরিবারে অবিরত রোনাজারী। মাদরাসা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তখন পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় পাশ্ববর্তী গ্রাম কন্ঠনগর কেন্দ্রীয় মসজিদের সম্মানিত খতিব। ২৭ রমজান ২০২১ ইং দিনটি ছিল শুক্রবার, জুমার বয়ান করছিলেন তার সুযোগ্য বড় পুত্র মুফতী মোঃ আবু শোয়াইব বিল্লাহ, জুমার বয়ান শেষে মিম্বারে দাঁড়ালেন আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃশহিদুর রহমান, সমবেত মুসল্লীদের সামনে আবেগ উচ্ছাস নিয়ে প্রকাশ করেন মনের ভিতর লালিত স্বপ্ন কুরআন, হাদিস এর আলোকে সালফে সালেহীনদের দেখানো পথে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর আক্বিদায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করার কথা।
আর এদিকে যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান মুফতী মোঃ আবু শোয়াইব বিল্লাহ চিন্তা করলেন শুধু মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হবেন না। পিতার স্বপ্নের পাশাপাশি তাঁর স্বপ্নের ও যোগসাজশ করে প্রণয়ন করলেন এক মহাপরিকল্পনা। শুধু মাত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা নয়, মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ কামনায় একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে ফাউন্ডেশনের অধীনে মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতিমখানা, পাঠাগার, মাতৃসদন ও মেডিকেল সেন্টার, ফি সাবিলিল্লাহ কবরস্থান, আত্মকর্মসংস্থান, আর্ত মানবতার সেবা সহ বিভিন্ন কল্যাণকর কর্মসূচি পালন করবেন। এ সকল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য ১২ কোটি টাকার প্রাথমিক বাজেট প্রণয়ন করেন, ০২ একর জমির উপর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। যখন কারও সাথে এই স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান বিনির্মানের বিষয়ে আলাপ করেন থমকে যান, অর্থনৈতিক উৎস কি হবে? এটা সম্ভব না এ ধরনের নানান কথা শোনাতেন। তাদের কথায় মাঝে ভেঙে পড়তেন, আবার আল্লাহর উপর ভরসা করে সামনের দিকে অগ্রসর হতেন। মাঝে মাঝে প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় ও হতাশ হয়ে যেতেন কি করে সম্ভব? আসলেই কি আল্লাহ বাস্তবায়ন করবেন পিতা-পুত্র ও পরিবারে সদস্যদের মনের ভিতর লালিত স্বপ্ন। হতাশ হলেও আল্লাহ আবার মনোবল সতেজ করে দিতেন পূর্ণ দমে আবারও শুরু করতেন পরিকল্পনা আর আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ। এভাবেই কাটছে দিনগুলো, ধীরে ধীরে স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠছে মনের গহীনে। মাদরাসা নির্মাণের জন্য শুরু হলো ফান্ডগঠন প্রক্রিয়া, প্রথমে পরিবারের সদস্যদের থেকে আসতে থাকল ওয়াদা, পরিবারের সদস্য দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে না বললেই নয় ২টি ওয়াদার কথা, বড় পুত্রবধূ সুমাইয়া রুমি ও মেঝ পুত্রবধূ আলেমা মাকনুন আক্তার তাদের মোহরানা থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকা করে দু`জনে দুই লক্ষ টাকা ওয়াদা করেন। তারপরে একে একে ওয়াদার তালিকায় যুক্ত হলেন মাওলানা জোনায়েদ বোগদাদী, জনাব মোঃ আশিকুর রহমান শিমুল, জনাব তবারক হোসাইন, আলহাজ্ব আবু সালেহ, হাফেজ আব্দুল্লাহ আল কাফী, জনাব মোঃ মানিক (ফটিকছড়ি), আলহাজ্ব আব্দুল কাদের সহ আরো অনেকে।
একদিকে চলছে ফান্ড গঠন, অন্যদিকে চলছে প্রতিষ্ঠানের রুপরেখা, নাম, কর্মপদ্ধতি, কাজ শুরু করা সহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা। এরই মধ্যে নাম প্রস্তাব আসে ``দারুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ আহমদিয়া ফাউন্ডেশ`` যার অধীনে পরিচালিত হবে ``দারুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ আহমদিয়া মাদরাসা`` ও অন্যান্য প্রকল্প সমূহ। সর্বসম্মতিক্রমে এ নাম গৃহীত হয়, এবং রিসিট বই ও তৈরি করা হয়। বাঁধে বিপত্তি, চারদিক থেকে পরামর্শ আসতে থাকল নাম যেন আরেকটু সহজ করা হয়, প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় রাসূলের নাম ও কুরআন-সুন্নাহ এর আলোকে রাখা নাম পরিবর্তন করার সাহস পাচ্ছিলেন না। এরই মধ্যে ফাউন্ডেশন নাম নিয়ে আলাপ হয় শায়খুল হাদীস হাজীগঞ্জ দারুল উলুম আহমদিয়া কামিল মাদরাসা অধ্যক্ষ ড. হিফযুর রহমান সাহেব এর সাথে, পরিবারের সদস্যগন বিকল্প নাম হিসেবে নির্বাচন করেছেন ``সিরাজুম মুনির ফাউন্ডেশন``। মুহতারাম অধ্যক্ষ সাহেব তাহকিক শেষে বললেন এ নামটি রাখা যায়, সিদ্ধান্ত হলো ফাউন্ডেশন এর নাম ``সিরাজুম মুনির ফাউন্ডেশন``, এই নামে চলছে ফান্ড গঠন। মুফতি মোঃ আবু শোয়াইব বিল্লাহ কোন এক কাজে ঢাকা সফর করেন, চলার পথে হঠাৎ দেখা হয়ে যায় শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরসা`র একসময়ের তারকা ছাত্র, বর্তমান দেশ সেরা এক মাদরাসা ফকিহ এর সাথে। তখন তিনি স্বপ্নের ফাউন্ডেশন এর কথা বলেন, ফাউন্ডেশন এর পরিকল্পনা ও অগ্রগতি বিষয়ে আলাপ করেন, সবকিছু শুনে ফকিহ সাহেব গবেষনা করে পরামর্শ দিলেন ফাউন্ডেশনের নাম`` নূরে রিসালাত ফাউন্ডেশন`` হলে কেমন হয়? পরবর্তী তে বাসায় এসে পারিবারিক বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় ফাউন্ডেশনের নাম হবে ``নূরে রিসালাত ফাউন্ডেশন`` আর এই ফাউন্ডেশনের অধীনে যে মাদরাসা হবে তার নাম হবে ``নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসা``। প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় ব্যাকুল হয়ে আছেন কবে শুরু হবে তার হৃদয়ে লালিত স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান`` নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসা`` নির্মাণ। চলছে ফান্ড গঠন, এরই মধ্যে তৈরি করা হলো মাদরাসা একাডেমিক ড্রয়িং। প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় বললেন মাদরাসা কাজ শুরু করার পূর্বে বাইতুল্লাহ যাবেন, ক্বাবা শরীফে দোয়া কবুলের স্থান গুলোতে দাঁড়িয়ে মাদরাসা`র কবুলিয়াত এর জন্য রব্বে ক্বাবার কাছে প্রার্থনা করবেন। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর রওজা পাশে দাঁড়িয়ে সালাতু সালাম পেশ করে, আল্লাহর রাসূলের রওজা শরীফ সামনে রেখে মাদরাসার জন্য দোয়া করবেন। তারপর মাদরাসা কাজ শুরু করবেন। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বীয়, বড়পুত্র ও ০৩ জন নিকটাত্মীয় সহ ০৬ জন নিয়ে পবিত্র উমরাহ পালন করেন। উমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে এসে ০৭/০১/২০২২ ইং বাদ মাগরিব নূরে রিসালাত ফাউন্ডেশন এর তৎকালীন অস্থায়ী কার্যালয় ``বাইতুল হামদ`` (মৌলভীবাড়ী, গোসাইপুর, বুড়িচং, কুমিল্লা) এ
ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্মানিত সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মওলানা মোঃ শহিদুর রহমান এর সভাপতিত্বে মুফতি মোঃ আবু শোয়াইব বিল্লাহ এর সঞ্চালনায় প্রথম ``সমন্বয় সভা`` অনুষ্ঠিত হয়। উক্তসভায় ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মুফতী মোঃ আৰু শোয়াইব বিল্লাহ ফাউন্ডেশন কর্তৃক গৃহীত নানান কর্মসূচি ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। সভার সকল সদস্যবৃন্দর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় ১৪/০১/২০২২ ইং রোজ জুমা`বার সকাল ৯ টায় ``নূরে রিসালাত ফাউন্ডেশন`` মাঠ মাটি ভরাট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সভায় আশপাশের সকল গ্রামের সর্বসাধারণ ও বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিদের দাওয়াত করা হয়। সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে নূরে রিসালাত ফাউন্ডেশন মাঠ মাটি ভরাট শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত চাহিদার কথা বিবেচনা করে ১০ শতক জমির উপর প্রথমিক ভাবে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা দৃঢ় হবে বিধায়, প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় এর পারিবারিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় মাদরাসার জন্য ১০শতক জমি ও ২০ লক্ষ টাকা দান করার কথা থাকলেও মাদরাসা স্বার্থে ২০ শতক জমি ও ১০ লক্ষ টাকা প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় দান করবেন। পরবর্তী তে সেই ২০ শতক জমি ই মাটি ভরাট করা হয় (আলহামদুলিল্লাহ)। এতদিন যেটি স্বপ্ন ছিল ক্রমাগত ভাবে তা আজ বাস্তবতায় রুপ নিচ্ছে। এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কি হতে পারে? মাদরাসা মাঠ মাটি ভরাট চলছে ফালিল্লাাহীল হামদ্। মাটি ভরাট থেকে শুরু করে নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসা আজকের অবস্থানে আসার পিছনে যার অবদান অনস্বীকার্য তিনি হলেন প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় এর বড় জামাতা মাওলানা মোঃ মোসলেহ উদ্দীন। যিনি এই প্রতিষ্ঠান শুরু থেকে দিয়েছেন নানা ভাবে সহায়তা, লক্ষ লক্ষ টাকা যার হাত দিয়ে এসেছে এই প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে ছুটে বেড়িছেন নানান জায়গায়, লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে করেছেন সহায়তা। আল্লাহ এসব এর উত্তম প্রতিদান দান করুন। প্রথম ধাপে ২০ শতক জমির উপর মাটি ভরাট করা হলো, অর্থনৈতিক ক্রাইসিস এর কারনে চাহিদার আলোকে মাটি ভরাট করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী তে প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় এর নিজস্ব জমিতে একটি পুকুর খনন করে মাঠে মাটি ভরাট করা হয়।
মাটি ভরাট শেষ, অর্থনৈতিক ক্রাইসিস এবং মাটি মজবুত হওয়ার জন্য কাজ বন্ধ ছিল প্রায় ৩ মাস। ১৯ মার্চ ২০২২ ইং শনিবার সকাল ৯ ঘটিকা মাটি ভরাট কৃত ``নূরে রিসালাত ফাউন্ডেশন`` মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ``উন্নয়ন সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান`` উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানে আশপাশে সকল গ্রামে চিঠি বিতরণ করে দাওয়াত করা হয়। নানান শ্রেণি পেশার মানুষে সেদিন মুখরিত হয় নূরে রিসালাত ফাউন্ডেশন মাঠ। উন্নয়ন সভায় আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয় রমাজন মাসে মাদরাসা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। প্রথমে সিদ্ধান্ত হয় টিনের ঘর নির্মাণ করা হবে, কাঠ মিস্ত্রী এসে স্টিমেট ও দিয়ে যায়। পরবর্তী তে যুগের চাহিদার কথা বিবেচনা করে টিনশেড ১৬০/২৮ ফুট বিশিষ্ট একটি আধাপাকা টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হবে সিদ্ধান্ত হয়। রাজমিস্ত্রীদের সাথে আলাপ করা হলে তারা উর্ধতন মিস্ত্রীদের সাথে পরামর্শ ও আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে পাচ হাজার স্কয়ার ফিট ০২ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন ``দারে হযরত মোহাম্মদ (সা)`` ভবন নির্মাণ এর সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে বৃহৎ পর্যালোচনা করে ০২ তলা ফাউন্ডেশন এর স্থলে ০৪ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ০৮ এপ্রিল ২০২২ ইং ``দারে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মাদরাসা নির্মাণ কাজ হাঁটি হাঁটি করে অগ্রসর হচ্ছে। আল্লাহর এক বান্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মাদরাসা পরিদর্শন করেন, মাদরাসার পরিকল্পনা কাজের অগ্রগতি দেখে মাদরাসায় ১০ শতক জমি দান করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে মাদরাসা স্বার্থে প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় এর দান কৃত জমি থেকে ১০ শতক জমি বিক্রি করা হয়। পরবর্তী তে আল্লাহর ওই বান্দা মাদরাসার জন্য ২য় বার আবার ১০ শতক জমি মাদরাসায় ওয়াকফ করে দেন। আল্লাহর অপার রহমতে স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান আজ দৃশ্যমান, এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসা। মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসায় দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ``দারে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) শিক্ষা ভবন``। অবশেষে এলো এক মাহেন্দ্রক্ষণ ২৮ অক্টোবর ২০২২ ইং ১ম তলা ছাদ ঢালাই। যে স্বপ্ন লালিত হচ্ছিল হৃদয়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবে দৃশ্যমান, আলহামদুলিল্লাহ।
২০২২ইং থেকে ২০২৩ ইং একছরের পথচলায় আমরা পেয়েছি রবের অপরিসীম অনুগ্রহ, মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা, যাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতার উপর ভর করে ২০২৩ ইং সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসা সক্ষম হয়েছে তাহফিজুল কোরআন, ইয়াতিমখানা, নূরানী ও ইসলামিক কিন্ডারগার্টেন, মুতাওয়াসসিতাহ (মাধ্যমিক) বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে। বর্তমানে এসকল বিভাগে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এডভাইজারী বোর্ড ও মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদ এর সুদক্ষ পরিকল্পনা, উস্তাদগনের নিবিড় পরিচর্যায় ইলমে নববী আদর্শে ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষা গ্রহন করছে। আমাদের মাদরাসা এ পর্যায়ে আসার পিছনে আরেক জন ব্যক্তির অবদান স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে, তিনি হলেন প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় এর মেঝে পুত্র, নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাওলানা ইলইয়াছ রাফি। যিনি লক্ষাধিক টাকা ব্যবস্থা করেছেন এবং বর্তমানে ও করছেন, প্রতিষ্ঠানের যখনই যা প্রয়োজন রবের উপর ভরসা করে সম্মুখ পানে ছুটে চলেন দূর্বার। সভাপতি মহোদয় এর অর্থনৈতিক সাপোর্ট নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসার জন্য আল্লাহর বিশেষ সাহায্যর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মাদরাসা সম্মানিত মহাপরিচালক মুফতী মোঃ আবু শোয়াইব বিল্লাহ সাহেব যে বিশাল স্বপ্ন বুনে পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেলিন একে একে সব গুলোই পরম করুনাময় এর দয়ায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। মাদরাসা মহিলা শাখার জন্য আলাদা ক্যাম্পাস এর ফিকির ছিল দীর্ঘ দিনের, আল্লাহ দোয়া কবুল করেছেন। মহিলা শাখার জন্য রাস্তার পাশে আলাদা ১২ শতক জমি বায়না করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এই ১২ শতক জমির উপর আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বিলিত ১০ তলা ভবন নির্মিত হবে। আমাদের মেয়েরা ইসলামী শরীয়া মোতাবেক পর্দা ও নিরাপদে ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। ফাউন্ডেশন এর সেন্ট্রাল মসজিদ, কবরস্থান, পাঠাগার, মাদরাসা ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ এর লক্ষ্যে জমি ক্রয় চলছে। ইতিমধ্যে বালিকা ক্যাম্পাস এর জন্য নির্ধারিত জমি সহ ২৩ শতক জমি বায়না করা হয়েছে, যার ০৬ শতাংশ জমি প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় এর মেঝ পুত্র, নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসা সম্মানিত সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাওলানা ইলইয়াছ রাফি ক্রয় করে মাদরাসায় ওয়াকফ করে দেন। পরিশেষে বলবো, যুগে যুগে এভাবেই আল্লাহ তা`য়ালা তার কিছু বান্দার মাধ্যমে খেদমত নিয়ে থাকেন, আয় আল্লাহ আপনি সকলের খেদমত কবুল করুন, যাঁরা নূরে রিসালাত ফাউন্ডেশন এর পথচলায় সঙ্গী হলেন তাঁদের উপর আপনি রহম করুন, উত্তম বিনিময় দান করুন। আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ শহিদুর রহমান হাফিজাহুল্লাহ যে স্বপ্ন বুকে নিয়ে এ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন আপনি কবুল করুন। কিয়ামত পর্যন্ত যোগ্য অভিভাবক দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান কে আচ্ছাদিত রাখুন, দেশ ও জাতির কল্যাণে নূরে রিসালাত ফাউন্ডেশন ও নূরে রিসালাত মডেল মাদরাসা কে কবুল করুন। আখেরাতে এর উসিলায় আমাদের নাজাতের ব্যবস্থা করে দিও (আমিন)।